জোসিয়া সত্য উপাসনা পুনরুদ্ধার করেন
1. রাজা য়োশিয যিহূদা ও জেরুশালেমের সমস্ত নেতাদের এসে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে নির্দেশ দিলেন
2. তারপর তিনি প্রভুর মন্দিরে গেলেন
3. স্তম্ভের পাশে দাঁড়িয়ে রাজা য়োশিয প্রভুর কাছে তাঁর সমস্ত বিধি ও নীতিগুলি মেনে চলবেন বলে প্রতিজ্ঞা করলেন
4. তারপর রাজা য়োশিয, প্রধান যাজক হিল্কিয, অন্যান্য যাজকদের, মন্দিরের দাররক্ষী প্রভুর মন্দির থেকে বাল মূর্ত্তি, আশেরা ও নক্ষত্রদের পূজা ও আনুগত্য প্রদর্শনের জন্য ব্যবহৃত সমস্ত থালা ও অন্যান্য জিনিসপত্র বের করে আনতে নির্দেশ দিলেন
5. যিহূদার রাজারা হারোণের পরিবারের বাইরের কিছু কিছু সাধারণ লোককে যাজক হিসেবে নিযুক্ত করেছিলেন
6. তারপর প্রভুর মন্দির চত্বর থেকে আশেরার মূর্ত্তির জন্য পোঁতা সমস্ত খুঁটি উপড়ে তুলে শহরের বাইরে কিদ্রোণ উপত্যকায নিয়ে গিয়ে পুড়িয়ে ছাই করে, সেই ছাই সাধারণ মানুষদের কবরে ছড়িয়ে দিলেন
7. এরপর য়োশিয প্রভুর মন্দির চত্বরের ভেতরে বসবাসকারী পুরুষদেহ ব্যবসাযীদের ঘরগুলো ভেঙে ফেললেন
8. সে সময় যাজকরা যিহূদার বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে বসবাস করত এবং জেরুশালেমে প্রভুর মন্দিরের বেদীতে বলিদান না করে মূর্ত্তিসমূহের জন্য সর্বত্র বানানো উঁচু বেদীগুলোয বলিদান করতো ও ধুপধূনো দিত
9. যাজকরা জেরুশালেমের মন্দিরে তাদের জন্য নির্দিষ্ট জায়গার পরিবর্তে সাধারণ লোকদের সঙ্গে যেখানে খুশী বসে খামিরবিহীন রুটি খেত
10. হিন্নোম সোন উপত্যকার তোফতে মোলকের মূর্ত্তির উদ্দেশ্যে লোকরা বেদীতে নিজেদের ছেলেমেয়েকে আগুনে আহুতি দিত
11. যিহূদার আগের রাজারা প্রভুর মন্দিরের প্রবেশপথে নথন মোলক নামে এক গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারীর ঘরের পাশে সূর্য় দেবতাকে সম্মান জানানোর জন্য একটা ঘোড়ায় টানা রথ তৈরী করে দিয়েছিলেন
12. আগেকার রাজারা আহসের বাড়ির ছাদে এবং মনঃশি প্রভুর মন্দিরের দুটো উঠোনেই মূর্ত্তিসমূহের পূজোর জন্য য়ে বেদীগুলো বানিয়েছিলেন, য়োশিয সেই সব বেদী টুকরো টুকরো করে ভেঙে, ভাঙা টুকরোগুলো কিদ্রোণ উপত্যকায ফেলে দেয়
13. রাজা শলোমনও অতীতে জেরুশালেমের কাছে বিনাশ পাহাড়ের দক্ষিণে এই ধরণের কিছু উঁচু বেদী বানিয়েছিলেন, যেখানে সীদোনীয়দের ঘৃণ্য মূর্ত্তি অষ্টোরতের পূজার জন্য এই সব বেদী ব্যবহার করা হত
14. তিনি যাবতীয় স্মৃতিফলক, আশেরার খুঁটি ভেঙে দিয়ে সে সব জায়গায় নরকঙ্কাল ছড়িয়ে দেন
15. নবাটের পুত্র যারবিয়াম ইস্রায়েলকে পাপাচরণের পথে ঠেলে দিয়েছিলেন
16. য়োশিয পর্বতের আশেপাশে তাকিযে অনেক কবরখানা দেখতে পেলেন
17. য়োশিয প্রশ্ন করলেন, “ওটা কিসের ফলক?” শহরের লোকরা তাঁকে উত্তর দিলো, “এটা সেই যিহূদা থেকে আসা ভাব্বাদীর কবর
18. য়োশিয তখন বললেন, “দেখো ওঁর কবরে য়েন কোন রকম হাত না পড়ে
19. শমরিয়ায শহরগুলোয মূর্ত্তিসমূহের বেদীর আশেপাশে য়ে সমস্ত মন্দির গজিযে উঠেছিল য়োশিয সেগুলোও ভেঙে দিয়েছিলেন
20. য়োশিয শমরিয়ার উচ্চস্থানের সমস্ত যাজকদেরই হত্যা করলেন
21. এরপর য়োশিয সমস্ত লোকদের নির্দেশ দিলেন, “বিধিপুস্তকে য়ে ভাবে লেখা আছে, সে ভাবে তোমরা প্রভু তোমাদের ঈশ্বরের জন্য নিস্তারপর্ব উদযাপন কর
22. ইস্রায়েলে বিচারকদের শাসনকালের পর আর কেউ এভাবে নিস্তারপর্ব উদযাপন করেনি
23. য়োশিযর রাজত্বের 18 তম বছরে লোকরা এই নিস্তারপর্ব পালন করেছিল
24. যিহূদা ও জেরুশালেমে লোকরা প্রেতসাধনা, ডাকিনী-পিশাচ-তন্ত্রসাধনা, মূর্ত্তিপূজা প্রভৃতি য়েসব ঘৃণ্য পাপাচরণ করত, যাজক হিল্কিযর খুঁজে পাওয়া বিধি অনুসারে য়োশিয এসবই সমূলে উত্পাটন করেন
25. এর আগের আর কোন রাজাই য়োশিযর মত ছিলেন না
যিহূদার উপর আসন্ন বিচার
26. কিন্তু তবুও যিহূদার লোকদের ওপর থেকে প্রভুর রাগ পড়েনি
27. প্রভু বলেছিলেন, “আমি ইস্রায়েলের লোকদের তাদের বাসভূমি ছাড়তে বাধ্য করেছিলাম
জোসিয়াহ যুদ্ধে মারা যায়
28. য়োশিয আর যা কিছু করেছিলেন, সে সবই ‘যিহূদার রাজাদের ইতিহাস’ গ্রন্থে লিপিবদ্ধ আছে
29. য়োশিযর রাজত্বকালে মিশরের ফরৌণ-নখো ফরাত্ নদীর তীরে অশূর-রাজের সঙ্গে যুদ্ধ করতে যান
30. য়োশিযর পদস্থ আধিকারিকরা রথে করে তাঁর মৃতদেহ মগিদ্দো থেকে জেরুশালেমে নিয়ে এসে তাঁকে তাঁর পরিবারের সমাধিস্থলে সমাধি দিলেন
যিহোয়াহাজের রাজত্ব এবং বন্দীত্ব
31. যিহোয়াহস 23 বছর বযসে রাজা হয়ে মাত্র তিন মাসের জন্য জেরুশালেমে রাজত্ব করেছিলেন
32. প্রভু য়ে সব কাজ করতে বারণ করেছিলেন, যিহোয়াহস সেই সমস্ত কাজ করেছিলেন
33. ফরৌণ-নখো, যিহোয়াহসকে হমাত্ দেশের রিব্লাতে জেলে আটক করেন, ফলত যিহোয়াহসের পক্ষে আর জেরুশালেমে রাজত্ব করা সম্ভব হয় নি
34. ফরৌণ, য়োশিযর আরেক পুত্র
যিহোয়াকিম যিহূদায় রাজত্ব করেন
35. যিহোয়াকীম ফরৌণকে সোনা ও রূপো দিলেন
36. যিহোয়াকীম 25 বছর বযসে রাজা হয়ে এগারো বছর জেরুশালেমে রাজত্ব করেছিলেন
37. যিহোয়াকীমও প্রভু য়ে সমস্ত কাজ করতে বারণ করেন, তাঁর অধিকাংশ পূর্বপুরুষদের মত সেই সমস্ত কাজ করেছিলেন